নারী নির্যাতন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নারী নির্যাতন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজধানীতে এক গারো তরুণীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দেড় ঘণ্টা ধরে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ ঃ (ভিডিও)

রাজধানীতে এক গারো তরুণীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে দেড় ঘণ্টা ধরে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ ঃ (ভিডিও)

১১:৩৩ AM Add Comment

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় এ ঘটনার পর শুক্রবার ভাটারা থানায় মামলা করেছে ধর্ষণের শিকার মেয়েটির পরিবার।  
বর্ষবরণের উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নারীদের যৌন নিপীড়নের ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের মধ্যেই ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটল।     
সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ ধরনের অপরাধের মাত্রা দিন দিন  বাড়ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারী অধিকারকর্মীরা।  
ভাটারা থানার পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, অভিভাবকরা ওই তরুণীকে থানায় নিয়ে এলে শুক্রবার দুপুরে তাদের মামলা নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হলেও কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
“তিনি ধর্ষকদের কাউকে চিনতে পেরেছেন কি না, তাও বলেননি। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছি।”
রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেয়েটিকে তেজগাঁওয়ে পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেওয়া হয়েছে বলে ভাটারা থানার ওসি নুরুল মুত্তাকিম জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শনিবার সকালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
২১ বছর বয়সী ওই তরুণী যমুনা ফিউচার পার্কের একটি পোশাকের দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করেন। বড় বোনের সঙ্গে উত্তরায় থাকেন খালার বাসায়। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়ায়।
এই খবরটি শুনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক থানায় যান। তিনি অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে আহ্বান জানান।
আনিসুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভাটারা থানা পুলিশের সঙ্গে দেখা করে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানোর পাশাপাশি ভিকটিমকে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা দেওয়ার অনুরোধ করেছি।”
আনিসুল হক ধর্ষিতের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে ভাটারা থানার ওসি নুরুল মুস্তাকীন জানান।
দেড় ঘণ্টার পাশবিকতা
মেয়েটির বড় বোন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার জন্য যমুনা ফিউচার পার্কের উল্টো দিকে বাসের অপেক্ষা করছিলেন তার ছোট বোন।
“এ সময় হঠাৎ একটি মাইক্রোবাস এসে ওর সামনে থামে এবং দুই যুবক ওকে জোর করে গাড়িতে তোলে। ভেতরে আরও তিনজন ছিল। তারা পাঁচজন মিলে চলন্ত গাড়িতে ওকে ধর্ষণ করে রাত পৌনে ১১টার দিকে উত্তরার জসিমউদ্দীন রোডে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়।”
বড় বোন জানান, মাইক্রোবাসটি চালানো হচ্ছিল ধীর গতিতে। কুড়িল বিশ্বরোড ও যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের এলাকা দিয়েই গাড়িটি কয়েকবার ঘুরেছে।
“তখনও ওরা গাড়ির ভেতরে আমার বোনকে ধর্ষণ করছিল।”
তিনি জানান, গত সপ্তাহের শুরুতে এক লোক দুই বিদেশি নারীকে নিয়ে যমুনা ফিউচার পার্কের ওই দোকানে যান, যেখানে তার ছোট বোন কাজ করেন।
“আমার বোন কোথায় থাকে, কত বেতন পায়, পরিবারে কে কে আছে জানতে চেয়েছিল তারা। ও বলেছে, মাইক্রোবাসে পাঁচজনের মধ্যে সেই লোকও ছিল। দোকানের সিসিটিভির ফুটেজ দেখলে তাকে ও চিনতে পারবে বলে মনে হয়।”
বড় বোন জানান, তারা জাতিতে গারো; তবে খ্রিষ্ট ধর্ম পালন করেন। ঢাকায় কাজ করার পাশাপাশি তার বোন এ বছরের শুরুতে ময়মনসিংহের একটি কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিলেন।
রাতে ধর্ষণের ঘটনার পর মামলা করার জন্য তাদের তিন থানায় ঘুরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়ে বলেও জানান তিনি। 
তুরাগ থানা কাছে হয় বলে মামলা করার জন্য রাত ৪টার দিকে মেয়েটিকে নিয়ে তারা সেখানে যান। কিন্তু অন্য এলাকার ঘটনা বলে পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দেয়।
এরপর ভোর ৫টার দিকে তারা যান গুলশান থানায়। সেখানেও একই উত্তর মেলে।
শেষে সাড়ে ৬টার দিকে ভাটারা থানায় গেলে বলা হয়, ওসি নেই, অপেক্ষা করতে হবে।
এরপর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওসি আসেন এবং তাদের কথা শুনে সাড়ে ১২টার দিকে মামলা নথিভুক্ত করা হয় বলে মেয়েটির বড় বোন জানান।
‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’
যৌন নিপীড়নের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা সমালোচিত হওয়ার পর দেড় মাস না পেরোতেই ধর্ষণের এই ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে তা জানতে গুলশান বিভাগের উপ কমিশনার লুৎফুল কবীরকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। 
মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মীর রেজাউল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সন্দেহের ভিত্তিতে আমরা তো কিছু বলতে পারব না। মামলা হয়েছে, এখন তদন্ত হবে। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করব।”
অন্যদিকে নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি এবং ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ প্রকারান্তরে এ ধরনের অপধারীদের উৎসাহ যোগাচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার কোনো ঘটনা ঘটলে কিছুদিন হইচই হয়, আলোচনা হয়, তারপর অন্য ঘটনার পেছনে তা চাপা পড়ে যায়। এই ধারা চলতে থাকায় অপরাধের মাত্রাও বাড়ছে।
“ধর্ষণের এই ঘটনাটি খুব সিরিয়াস। পুলিশকে আরও ভূমিকা নিতে হবে এবং অপরাধীদের যত দ্রুত সম্ভব গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”
গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ভিড়ের মধ্যে এক দল যুবক নারীদের ওপর চড়াও হয়। সে সময় চার নিপীড়ককে ধরে পুলিশের কাছে দেওয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়, যা পুলিশও স্বীকার করেছে।
ওই ঘটনায় পুলিশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এক মাসেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পেরে পুলিশ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সিসিটিভির ফুটেজ থেকে আট সন্দেহভাজন নিপীড়কের ছবি প্রকাশ করে তাদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে।  
এরই মধ্যে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলে এক শিক্ষার্থীকে ‘যৌন হয়রানি’র অভিযোগ ওঠে।এর তদন্ত নিয়ে টালবাহানার অভিযোগে অভিভাবকরা বিক্ষোভ শুরু করলে গত ১৬ মে উপাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ।
যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের এসব ঘটনার পর নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ‘প্রীতিলতা ব্রিগেড’ গঠন করেছে ছাত্র ইউনিয়ন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লাকী আক্তার।
চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “প্রতিদিন নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে তা বেড়ে চলেছে। প্রশাসন যেরকম গা ছাড়া ভাব দেখাচ্ছে, তা থেকে সরে এসে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন না হলে জনগণ ন্যায়বিচারের দায়িত্ব নিজেদের হাতে তুলে নেবে।”
বাবা ধর্ষণ করত, মা ওষুধ দিত  প্রেস ক্লাবে এইভেবেই বলছিল অসহাই মেয়েটি

বাবা ধর্ষণ করত, মা ওষুধ দিত প্রেস ক্লাবে এইভেবেই বলছিল অসহাই মেয়েটি

৪:২৯ PM 3 Comments
rape_2
মায়ের সামনেই কয়েক বছর ধরে বাবার হাতে ধর্ষণের শিকার হয়ে একেবারে ভেঙে পড়েছিলেন সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। থানা-পুলিশ বা বাইরের কাউকে ঘটনাটি বলার সাহস ছিল না তার। কিন্তু নারী ও শিশু নির্যাতন বিষয়ক কাউন্সেলিং থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ‘হায়েনা বাবার’ কুকীর্তির কথা শিক্ষককে জানালে বিষয়টি আলোড়ন সৃষ্টি হয়। শনিবার জি নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
ঘটনাটি ভারতের মুম্বাইয়ে। গত সপ্তাহে শিক্ষকের টেবিলে চুপিচুপি ছুটির আবেদনের কথা বলে একটি চিঠি দিয়ে চলে যায় সে। চিঠিটি খোলার আগেও শিক্ষক জানতেন না কী ভয়াবহ বার্তা দিয়েছে মেয়েটি। চিঠি খুলেই শিক্ষকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। এতে লেখা ছিল প্রতিদিন তাকে ধর্ষিত হতে হয় বাবার দ্বারা। আর সবকিছু জেনেও চুপ করে থাকেন তার মা।
চিঠি পড়েই এক মুহূর্তে দেরি করেননি ওই শিক্ষক। এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। তাদের সাহায্যেই গত সোমবার মুম্বাইয়ের ভাসি থানায় বাবা, মায়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১৩ বছরের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী চিঠিতে লিখেছিল, আমার বাবা আমাকে ধর্ষণ করে, মা সব জেনেও আমার সাহায্যে এগিয়ে আসেন না।
পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্ত বাবা একজন ফল বিক্রেতা। বয়স ৪৫ বছর। পুলিশকে মেয়েটি জানিয়েছে, ‘মায়ের সামনেই বাবা আমাকে ধর্ষণ করত। তারপর মাঝে মাঝেই মা আমাকের একটা করে ওষুধ খেতে দিত। আমার যখন ৭ বছর বয়স, তখন থেকে চলে আসছে এই ঘটনা। মা কখনই আমাকে সাহায্য করেনি।’
অভিযোগকারিনী মেয়েটির এক বড় বোন ও তিন ভাই রয়েছে। অন্য ভাইবোনরা বাড়িতে যখন থাকত না, তখনই তাকে ধর্ষণ করা হতো বলে জানিয়েছে সে। মায়ের সাহায্য না পেয়ে বড় বোন (১৭) কাছে ছুটে গিয়েও লাভ হয়নি। কারণ, বোনও ছিল একই পরিস্থিতির শিকার।
পুলিশ জানিয়েছে, মুম্বাইয়ের কিছু স্কুলে কয়েকটি এনজিও শিশুদের যৌন নির্যাতন নিয়ে কাউন্সেলিং সেশন করেছিল। সেখানে যোগ দিয়েই সাহস সঞ্চয় করে মেয়েটি। তার বাবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপাতত একটি চিলড্রেন্স হোমে রয়েছে মেয়েটি
সবার সামনে এ কেমন নারী নিরযাতন?

সবার সামনে এ কেমন নারী নিরযাতন?

৪:২০ PM Add Comment
11092015-16-15-House-Wife-T
প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী তাঁর খালাতো বোন ও বোনের স্বামীর সঙ্গে গল্প করছিলেন। এমন সময় ঘরে প্রবেশ করে একদল ব্যক্তি। নিজেদের ‘সমাজপতি’ দাবি করে প্রবাসীর স্ত্রীর খালাতো বোন ও বোনের স্বামীকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে ওই দম্পতির বিয়ের কাগজপত্র দেখতে চায়। ওই অজুহাত দিয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ আনে তথাকথিত ‘সমাজপতি’রা।
কেবল অভিযোগ এনেই ক্ষান্ত হয়নি ‘সমাজপতি’রা। তিনজনকে প্রকাশ্যে গ্রামের সবার সামনে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়েছে। কানে ধরে উঠবস করিয়েছে। গত ২৯ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়নের পাঁচপোতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। প্রবাসীর স্ত্রী সুলতানা (ছদ্মনাম, বয়স ২৬) এ নির্যাতনের বিচার চেয়ে মামলা করেছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে পুলিশ তাঁকে সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
১২ দিন আগে এ ঘটনা ঘটলেও সুলতানা ও তাঁর স্বজনরা বিষয়টি কাউকে জানায়নি। কিন্তু সম্প্রতি ওই নির্যাতনের ছবি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
সুলতানা সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১২ বছর আগে একই উপজেলার কেড়াগাছি ইউনিয়নের পাঁচপোতা গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহিমের (ছদ্মনাম) সঙ্গে সুলতানার বিয়ে হয়। রহিম তিন বছর ধরে মালয়েশিয়ায় চাকরি করছেন।
পাঁচপোতা গ্রামে মেয়ে টুনিকে (ছদ্মনাম, বয়স ৬) নিয়ে একাই থাকতেন সুলতানা। পাশে অন্য এক বাড়িতে থাকতেন সুলতানার বৃদ্ধা শ্বাশুড়ি। সুলতানা বলেন, ‘স্বামী রহিমের অনুপস্থিতির সুযোগে রহিমের ভাগ্নে বিল্লাল হোসেন প্রায়ই আমাকে উত্ত্যক্ত করত। বিল্লাল একই গ্রামের বাসিন্দা।’ সুলতানা অভিযোগ করেন, বিল্লাল চোরাচালানের কাজ করে। সে তাঁর (সুলতানা) মুঠোফোনের নম্বর চেয়েও না পাওয়ায় আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়। বিল্লাল তাঁর (সুলতানা) বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অশোভন কথা বলে বেড়াত।
সুলতানা আরো জানান, কিছুদিন আগে মালয়েশিয়া থেকে বাড়ি ফিরে আসেন স্বামী রহিমের ভাই মোস্তফা মোড়ল। মোস্তফার সঙ্গে রহিমের জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ ছিল। বিল্লাল এই সুযোগে মোস্তফার পক্ষ নিয়ে রহিমের অনুপস্থিতিতে সুলতানা সম্পর্কে আরো বেশি করে কটূক্তি করতে থাকে। এ ঘটনার পর গত চার মাস আগে সুলতানা তাঁর ভাই ওমর শরিফের সঙ্গে নিজ গ্রাম রামকৃষ্ণপুর চলে যান।
সুলতানা জানান, বাড়িঘর দেখার জন্য গত ২৭ আগস্ট মেয়ে টুনি ও নিজের খালাতো বোন পারভীন খাতুনকে (ছদ্মনাম) নিয়ে গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান তিনি। একদিন পর গত ২৯ আগস্ট পারভীনের স্বামী আরিফুর রহমানও (ছদ্মনাম) যান তাঁদের বাড়িতে। দুপুরে তাঁরা রান্না করার পাশাপাশি গল্প করছিলেন। তখনই ওই বাড়িতে ঢুকে পড়ে বিল্লাল ও মোস্তফা মোড়ল। সুলতানা জানান, ওই দুজনের সঙ্গে একই গ্রামের রুহুল কুদ্দুস, জিয়া, জোহর, লাল্টু, ভোলা, ইসমাইল, ইমান মুহুরি, আশরাফুল, কাওসারসহ আরো কয়েকজন ছিল। তারা নিজেদের সমাজপতি বলে পরিচয় দেয়।
সুলতানা জানান, বিল্লাল ও মোস্তফা তাঁর বোন রুমা ও জাহিদের পরিচয় জানতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেই। এ সময় বিল্লাল ও তাঁর লোকজন পারভীন ও আরিফের বিয়ের কাগজপত্র দেখতে চায়। আমি বলি গত দেড় বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। আর বিয়ের কাগজপত্র তো সঙ্গে থাকে না। এরপরই তারা ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। বলে, নগদ দিন, তাহলে আমরা কোনো ক্ষতি করব না।’
সুলতানা বলেন, ‘আমি ওদের (বিল্লাল ও অন্যান্য) টাকা দিতে আপত্তি জানাই। এরপরই তারা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করতে থাকে। এ সময় তারা নগদ টাকা, গলার চেইন, মুঠোফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। কুদ্দুস নামের লোকটি আমাকে চড় মারতে থাকে। এরপরই গরু বাঁধার রশি এনে আমাদের তিনজনকেই হাতে ও পিঠে বেঁধে টানতে টানতে ঘরের বাইরে নিয়ে আসে। এরপর বাঁশের লাঠি ও কুড়ালের আছাড় খুলে মারধর করে আমাদের।’
সুলতানা বলেন, ‘যন্ত্রণায় চিৎকার করলেও এলাকার ছেলে, মেয়ে ও বয়স্ক ব্যক্তিরা এতে উৎসাহ জুগিয়ে উল্লাস করতে থাকে। এভাবে বেশ কয়েক মিনিট ধরে মারধর করার পর আমাদের রশি দিয়ে টেনে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে প্রতিবেশী কমিউনিটি পুলিশ সদস্য ইসমাইলের বাড়িতে নিয়ে যায়। ওখানে আবারও আমাদের মারধর করা হয়। এরপর একশবার কান ধরে ওঠবস করায়।’
সুলতানা বলেন, ‘বারবার চিৎকার দিয়ে বলেছি আমাদের কোনো দোষ নেই, আমাদের ছেড়ে দিন, আমাদের মারবেন না।’
সুলতানা জানান, গ্রাম পুলিশ ইব্রাহীমসহ শতাধিক নারী-পুরুষ তা প্রত্যক্ষ করেও ছিলেন নির্বিকার। সুলতানার বৃদ্ধা ও অসুস্থ শাশুড়ির আকুতিও এসব ব্যক্তিরা শোনেননি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কেড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ফারুক হোসেন ও তাঁর ছেলে সবুজ। ফারুক ‘সমাজপতি’দের কাছ থেকে লাঠি কেড়ে নিয়ে রশির বাঁধন খুলে দেন। এরপরই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন সুলতানা। পারভীন ও আরিফ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকেন। পরে তাঁরা অন্যদের সহযোগিতা নিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন।
সুলতানা জানান, অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেউ এক গ্লাস পানিও খাওয়াতে আসেনি। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফারুক বলেন, ‘সুলতানা অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিল। আমি গ্রামের চিকিৎসককে ডেকে আনি।’
সুলতানার ভাই শওকত হোসেন (ছদ্মনাম) বলেন, ‘রাত ১২টায় বোনের ওপর নির্যাতনের কথা জানতে পারি। ওই রাতেই আমি ও আমার কাকা সুলতানাকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করাই।’
সুলতানা জানান, লোকলজ্জা এবং পরবর্তী বিপদ-আপদের আশঙ্কায় নির্যাতনের কথা চেপে রাখেন তিনি। পরে গত ৬ সেপ্টেম্বর সুলতানা বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় একটি মামলা করেন। সুলতানা দাবি করেন, ‘থানার উপপরিদর্শক মোয়াজ্জেম হোসেনকে যা বলেছি তা তিনি লেখেননি। একই কথা বারবার বলতে হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মামলায় নাম দিয়েছিলাম মোট ২০ জনের। অথচ এতে লেখা হয়েছে মাত্র তিনজনের নাম।’
এ ব্যাপারে কলারোয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এজাহারভুক্ত আসামিরা হচ্ছে রুহুল কুদ্দুস, বিল্লাল ও ইসমাইল। এ ছাড়া অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আরো দু-তিনজন রয়েছে।’
সুলতানা অভিযোগ করেন, ‘রুহুল কুদ্দুস তিনদিনের মাথায় জামিনে বাড়ি এসে আমাকে হুমকি দিচ্ছে।’ এ ব্যাপারে মোয়াজ্জেম বলেন, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতনের ১০ ধারায় ও ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে মামলা হয়েছে। কুদ্দুসকে গত ১ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী হিসেবে কুদ্দুস জামিন পেয়েছে বলে শুনেছি। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কয়েকজন পলাতক। তবে বিল্লাল, ইসমাইল, মোস্তফাসহ কেউ কেউ এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কেড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভুট্টোলাল গাইন বলেন, ‘ঘটনা জানার পরই আমি সেখানে যাই। সুলতানাকে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি আমি।’
এদিকে ঘটনার শিকার পারভীনের মা আলেয়া বেগম (ছদ্মনাম) বলেন, ‘আমার মেয়ে ও মেয়ের স্বামী আরিফ ঘটনার পর থেকে ভেঙে পড়েছে। কেবলই আত্মহনন করার কথা বলছে।’
House-Wife-Tortu111
গৃহবধূকে ৩দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ আবার ভিডিও ফাঁস

গৃহবধূকে ৩দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ আবার ভিডিও ফাঁস

১০:০৬ AM 22 Comments
highest-rape-crimeচাঁদা না পেয়ে রাজধানীর মাদারটেকের নন্দীপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ৩দিন আটকে রেখে লাগাতার গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় সবুজবাগ থানায় মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ।
শুক্রবার বিকালে ওই গৃহবধূকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।
গৃহবধূ জানান, গত মঙ্গলবার রাতে নন্দীপাড়া ১ নম্বর রোডের বাসা থেকে স্থানীয় মেহেদি, খোকন, মনির ও লিটনসহ কয়েকজন অস্ত্রের মুখে তাকে তুলে নিয়ে যায়। ওই এলাকারই একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় তাকে আটকে রেখে পালাক্রমে লাগাতার ধর্ষণ করে তারা। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর ওই গৃহবধূ তার স্বামীকে নিয়ে সবুজবাগ থানায় অভিযোগ করেন।
গৃহবধূর স্বামী অভিযোগ করে বলেন, ওই রাতে পুলিশ মামলা না নিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। পরে গতকাল সকালে গেলে অনেক গড়িমসির পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে বিকালে তার স্ত্রীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঢামেক হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠিয়েছে। তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনই ওমানে ছিলেন। প্রায় ৪ মাস আগে তারা বাংলাদেশে আসেন। ২ মাস ধরে তারা সবুজবাগের নন্দীপাড়া এলাকায় থাকছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তারা তাকে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ৩দিন আটকে রেখে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনায় মুখ খুললে দুর্বৃত্তরা তাদের মেরে ফেলারও হুমকি দেয়।
সবুজবাগ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।
নারী খেলোয়াড় গণধর্ষণের শিকার

নারী খেলোয়াড় গণধর্ষণের শিকার

১১:১৬ AM Add Comment
2015_09_08_12_17_13_yKw7SZHv3y5AOGOHUH0HlsSPSMN2OX_original
উপমহাদেশে ভয়ঙ্কর ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণ যেন একটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়ে গেছে। ভারতেই ঘটছে সবচেয়ে বেশি গণধর্ষণের ঘটনা। যা থেকে এবার রেহাই মেলেনি ভারতের জাতীয় পর্যায়ের এক জুডো খেলোয়াড়ের। অভিযোগ উঠেছে গুরগাঁওয়ের বিলাসপুরে ওই মহিলা জুডোকাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গতকাল সোমবার দেশটির গুরগাঁও মহিলা পুলিশ স্টেশনে গণধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেছেন ওই খেলোয়াড়। যদিও মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে প্রায় এক মাস আগে।
দু’জন দুষ্কৃতিকারী ওই মহিলা জুডোকাকে ধর্ষণ করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিকে খুঁজছে পুলিশ।
ঢাকার এক স্কুলে বখাটেরা  চুমো দেয়ায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা (ভিডিও)

ঢাকার এক স্কুলে বখাটেরা চুমো দেয়ায় স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা (ভিডিও)

৫:১৮ PM Add Comment
bbb ournewsbd
নির্ধারিত হলেও এর আগেই বুধবার সন্ধ্যায় বসতঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীর মরদেহ দেখতে পায় পরিবারের লোকজন।

খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ পুলিশ। তবে আর্থিকভাবে দরিদ্র হওয়ায় এবং বিচার পাবেন না এই ধারণায় মামলা করেন নি ওই স্কুলছাত্রী বাবা-মা। বৃহস্পতিবার বিকালে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানায় একটি সাধারণ অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে আজমেরির আত্মহত্যার পর থেকেই সম্রাট ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি-ঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে।
গত ১৯ আগষ্ট সম্রাট ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের একটি খালি শ্রেণী কক্ষে জোর করে নিয়ে যায়। ২২ আগষ্ট ওই ছাত্রী এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে। ২৬ আগষ্ট বুধবার সে মারা যায়।
পাঁচখোলা মুক্তিসেনা হাই স্কুল ও কলেজ এবং নিহত আজমেরির পরিবারিক সূত্র জানায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা গ্রামের সিরাজ মাতুব্বরের মেয়ে আজমেরি আক্তার কিরন পাঁচখোলা মুক্তিসেনা হাই স্কুল ও কলেজের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। একই এলাকার লতিফ সরদারের পুত্র সম্রাট একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র সম্রাট দুই মাস ধরে আজমেরিকে উত্যক্ত করত।
গত ১৯ আগষ্ট বিদ্যালয়ের টিফিনের সময় সম্রাট আজমেরিকে জোর করে একটি খালি কক্ষে নিয়ে যায়। ওই দিনই সে বিষয়টি শ্রেণী শিক্ষক সালমা বেগমকে জানায়। সালমা বেগমের পরামর্শে আজমেরি ২২ আগষ্ট বিষয়টি লিখিতভাবে প্রধান শিক্ষককে জানায়। প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য ওই দিনই চার সদস্যের একটি কমিটি করেন। বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক শহীদুল আলম, দুলাল মুখার্জী, কামাল হোসেন মৃধা ও সালমা বেগমকে তদন্ত কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তারা ২৫ আগষ্ট প্রধান শিক্ষকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
আজমেরির মা ঝর্ণা বেগম বলেন, ১৯ তারিখের বিষয়টি প্রথম সে আমাদের বলেনি। ঘরের মধ্যে সব সময় মন খারাপ করে বসে থাকত। তার কি হয়েছে আমি জানতে চাই, তখন সে আমাকে সব জানায়। মেয়েকে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করি।
এরপরে সে মঙ্গলবার স্কুলে থেকে ফিরে এসে কান্না করতে থাকে। আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি। বুধবার সে আর স্কুলে যায়নি। আমরা কৃষিকাজে বাড়ির বাইরে গেলে সে ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাস দেয়। সম্রাটের অপমান সইতে না পেরে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাৎক্ষনিকভাবে সম্রাটের বিচার করা হলে আমার মেয়ে এ পথ বেছে নিত না।
নিহত আজমেরির বাবা সিরাজ মাতুব্বর বলেন, আমার মেয়েটি লাজুক চাপা স্বভাবের, সহজে কাউকে কিছু বলত না। সম্রাট খারাপ কিছু করেছে না হলে সে আত্মহত্যা করবে কেন? আমরা গরীব মানুষ। যে কারণেই হোক ওর মৃত্যুর বিচার পাব কিভাবে। মামলা চালানোর মত অবস্থা আমাদের নেই। তাই কোন মামলা করিনি।
প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার কথা বলেছেন। আমিও তাই তাদের কাছে বিচারের কথা বলেছি।
পাঁচখোলা ইউপি চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন টুকু মোল্লা বলেন, ঘটনাটি শুনে আমি ওই মেয়েটির বাড়িতে যাই। তার পরিবারের কারও উপর কোন অভিযোগ নেই। তারাই বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা বলেছে। এ বিষয়ে মীমাংসার কোন উদ্যোগ নেয়া হয় নি।
পাঁচখোলা মুক্তিসেনা হাই স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার মিয়া বলেন, মেয়েটির অভিযোগ পেয়ে সম্রাটকে ডেকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম সে অভিযোগ অস্বীকার করে। তখন ঘটনাটি জানার জন্য তদন্ত কমিটি করে দেই। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগেই মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। এখন পরিবার চাইলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল মোর্শেদ বলেন, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে, পরিবার থেকে এমন তথ্য পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা কোন অভিযোগ করেনি। মেয়েটির মা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, তার মৃত্যুর জন্যকেউ দায়ী হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ আগষ্ট মস্তফাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর দুই শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার ও হ্যাপী আক্তার বখাটেদের অত্যাচারে মারা যায়